(স্থায়ী)
তুমি যারে মিলন কও, আমি তারে দেখি কামের বরষে
আমি যারে মিলন কই, হারাই সবি তার মধুর পরশে।
(অন্তরা)
তোমার মিলন ক্ষণিক সুখের, মাটির দেহের খেলা,
আমার মিলন অসীম সায়ের, ভাসাই জীবন-ভেলা।
তুমি খোঁজো বাঁধন কেবল, খাঁচায় পোষা পাখি,
আমি তোমায় মুক্ত করে, নিজের মাঝেই রাখি।
শরীর যখন ভস্ম হবে, কী রবে আর বাকি?
আমি তখন আত্মা হয়ে, তোমায় ঘিরে থাকি।
(সঞ্চারী)
কথার পিঠে কথা সাজাও, শরীর ছোঁয়ার ছলে,
আমি খুঁজি সেই মিলন, যা ভাসায় আঁখিজলে।
কাছে থেকেও দূরে রয়, সে কভু মিলন নয়,
না ছুঁয়েও যা মিশে থাকে, তাতেই তো হয় প্রণয় ।
চোখের তারায় রাখলে ও চোখ, সময় যে থমকে যায়,
সেই মিলনে দেহ নয় গো, হৃদয় যে আশ্রয় পায়।
(আভোগ)
তুমি ভাবো জয় করেছো, লুটেছো আজ সব সুখ,
আমি ভাবি সঁপে দিলাম, আমার এই পোড়া বুক।
তোমার প্রেমে তৃষ্ণা মেটে, আমারই বাড়ে দায়,
নদীর মতো ফুরিয়ে গিয়ে, সাগর পাওয়া যায়।
কণা তাই বলে ও শখে, শরীর কেবল ধূলি,
তোমায় পেয়ে আমি আমার, নিজেরেই যাই ভুলি।
© কর্ণ কিতাব কুমার মণ্ডল
(কোন্নগর, ২৮ পৌষ, ১৪৩২)
Comments